টেস্ট ক্রিকেট শুধু ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো ফরম্যাটই নয়, এটি একটি অনুভব। এটি এমন এক জায়গা, যেখানে খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, শারীরিক ফিটনেস, টেকনিক ও কৌশলের সর্বোচ্চ পরীক্ষা হয়। তবে ইতিহাস সাক্ষী, কিছু ম্যাচে একদল এতটাই আধিপত্য বিস্তার করেছে যে প্রতিপক্ষকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে হয়নি – যাকে বলা হয় ইনিংসে জয়, আর এখানেই গড়ে উঠেছে সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড।
আজ আমরা জানবো টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৫টি ইনিংসে জয় সম্পর্কে – যেখানে এক একটি জয় কেবল স্কোরবোর্ড নয়, বরং ক্রিকেট ইতিহাসে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
৫. পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ড

২০০২ সালের মে মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচে পাকিস্তান প্রমাণ করে দেয়, কেন উপমহাদেশে তারা এত ভয়ংকর হতে পারে।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে আসে এবং তোলে ৬৪৩/৪ ডিক্লেয়ার্ড—যা তাদের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড। ইনজামাম-উল-হক করেন ৩২৯ রান এবং ইউসুফ ইউহানা (বর্তমানে মোহাম্মদ ইউসুফ) করেন ২০৩ রান। এই দুই জনের জোড়া ডাবল সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।
এরপর পাকিস্তানি বোলাররা নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ৭৩ রানে প্রথম ইনিংসে এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৬ রানে গুটিয়ে দেয়। ম্যাচটি শেষ হয় চতুর্থ দিনে, এবং এটি ছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ইনিংসে জয়।
জয়ী দল | জয় ব্যবধান | প্রতিপক্ষ |
পাকিস্তান | ইনিংস ও ৩২৪ রান | নিউজিল্যান্ড |
৪. অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ক্রিকেটে ফিরে আসে অস্ট্রেলিয়া এবং প্রথম ম্যাচেই তারা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের আধিপত্য ঘোষণা করে। ১৯৪৬ সালের নভেম্বরে ব্রিসবেনে খেলা এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করে ৬৪৫ রান, যা তাদের অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড হিসেবে গণ্য করা হয়।
ডন ব্র্যাডম্যান করেন ১৮৭ রান এবং লিন্ডওয়াল ও মিলার বোলিংয়ে ইংল্যান্ড দুই ইনিংসে করে মাত্র ১৪১ ও ১৭২ রান।
ম্যাচটি শেষ হয় তিন দিনের মধ্যে এবং এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জয়, যা তাদের ফিরে আসার এক রাজকীয় ঘোষণা ছিল।
জয়ী দল | জয় ব্যবধান | প্রতিপক্ষ |
অস্ট্রেলিয়া | ইনিংস ও ৩৩২ রান | ইংল্যান্ড |
৩. ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ভারত

১৯৫৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ – যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি হয় ভারতের, যা পরবর্তীতে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড’-এর একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে তোলে ৬১৪/৫ ডিক্লেয়ার্ড, যা দলটির সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রান আসে গ্যারি সোবার্স, রোহন কানহাই এবং কনরাড হান্টের ব্যাট থেকে। ভারতের ব্যাটিং তখন ছিল দুর্বল অবস্থায়, ফলে তারা দুই ইনিংসেই ১২৪ ও ১৫৪ রানেই গুটিয়ে যায়।
এই ম্যাচটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক শিক্ষনীয় অধ্যায় হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ছিল শক্তির প্রদর্শনী।
জয়ী দল | জয় ব্যবধান | প্রতিপক্ষ |
ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ইনিংস ও ৩৩৬ রান | ভারত |
২. অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকার। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে তোলে ৬৫২/৭ ডিক্লেয়ার্ড – যেখানে রিকি পন্টিং করেন ১০০+, ডেমিয়েন মার্টিন এবং গিলক্রিস্টের ব্যাটে আসে রানের ঝড়, যা তাদের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড’-এর একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর দুই ইনিংসে মাত্র ৭৩ ও ১৫২ রান করে। ব্রেট লি, ম্যাকগ্রা এবং ওয়ার্ন বোলিং আক্রমণে ভেঙে পড়ে আফ্রিকান ব্যাটিং লাইন-আপ।
এই জয় ছিল টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতীক দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য, আর অস্ট্রেলিয়ার জন্য এক সোনালি অধ্যায়।
জয়ী দল | জয় ব্যবধান | প্রতিপক্ষ |
অস্ট্রেলিয়া | ইনিংস ও ৩৬০ রান | দক্ষিণ আফ্রিকা |
১. ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইনিংসে জয় ঘটে ১৯৩৮ সালের আগস্ট মাসে দ্য ওভাল গ্রাউন্ডে। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড তোলে এক অবিশ্বাস্য ৯০৩/৭ ডিক্লেয়ার্ড, যেখানে লেন হাটন করেন ৩৬৪ রান – যা দীর্ঘদিন পর্যন্ত ছিল টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
অস্ট্রেলিয়া দুই ইনিংসে ২০১ ও ১২৩ রানেই শেষ হয়ে যায়। তারা কিছুতেই লেন হাটনের জবাব দিতে পারেনি।
এই জয় এখনও ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গর্বের মাইলফলক, এবং ইনিংসে জয়ের ক্ষেত্রে এটি এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী ইনিংস জয়ের রেকর্ড ও সর্বোচ্চ ব্যবধানের রেকর্ড।
জয়ী দল | জয় ব্যবধান | প্রতিপক্ষ |
ইংল্যান্ড | ইনিংস ও ৫৭৯ রান | অস্ট্রেলিয়া |
READ MORE: